Skip to main content



yousufhossain985.blogspot.com
আজ থেকে মবিন তার নতুন স্টুডেন্ট অভিকে প্রাইভেট
পড়াতে শুরু করে, অভির সাথে পরিচয় পর্ব শেষ করে
ওর পড়ালেখার কি অবস্থা, সিলেবাসে কি আছে, ও
কেমন পারে ইত্যাদি খোজ খবর নিচ্ছে। এমন সময়
একটা মেয়ে মবিনের পিছনে এসে দাড়ায়, মেয়েটা
দুইটা কাশি দিয়ে মবিন কে আওয়াজ দেয়। মবিন
পিছনে তাকিয়ে দেখে একটা মেয়ে হাতে হাত
বেঁধে, ঘাড় বাকিয়ে রুদ্রমূর্তি ধারন করে দাঁড়িয়ে
আছে, যেন অনেকক্ষণ যাবত ওকে সহ্য করছে, ছাড়া
পেলে এখনই মবিনকে তুলধুল করবে। মবিন হা করে
তাকিয়ে আছে, যেন ও ভুত দেখছে, কিন্তু এটা ভুত না
মবিনের ক্লাসমেট আইরিন। আইরিন নীরবতা ভেঙ্গে
বলতে শুরু করে= কি ব্যাপার তুমি আমার ফোন কল
রিসিভ করছ না, ম্যাসেজ রিপ্লে করছ না, ব্যাপার
কি?
মবিন= তুমি এখানে কেন? দেখ এখানে কোন সিন
ক্রিয়েট করবে না, এখানে আমি পড়াতে এসেছি।
আইরিন= জানি, আমার ছোট ভাই অভিকে পড়াতে
এসেছ।
মবিন= মানে?
আইরিন= মানে এটা আমারই প্ল্যান, তুমি আমার কাছ
থেকে দূরে দূরে থাকতে চাও তো? তারই ব্যাবস্থা
করলাম। এখন থেকে আমাদের প্রতিদিন সাক্ষাৎ হবে,
দেখা হবে, কথাও হবে। বুঝলে চান্দু।
আইরিন ওর ছোট ভাই আবিরের দিকে তাকিয়ে
আদেশ সূচক ভঙ্গিতে বলে= এই কিচেনে এক কাপ
কফি রাখা আছে, নিয়ে আয়।
আইরিন আবার মবিনের দিকে তাকিয়ে বলতে শুরু
করে= শুনো তোমার জন্য এক কাপ কফি বানিয়েছি,
কফিটা খেয়ে একটা পিক তুলবা তাপর ফেইসবুকে
পোস্ট করবা, ক্যাপশন দিবে তোমার গার্লফ্রেন্ড
তোমাকে কফি বানিয়ে খায়িছে। মনে থাকে যেন।
কথাটা বলেই পিছন দিকে ফিরে হাঁটতে শুরু করে
আইরিন।
মবিন কিছুক্ষন থ হয়ে তাকিয়ে থাকে আইরিনের
দিকে, পর মুহূর্তেই পকেট থেকে মোবাইল টা বের
করে নাভিদ কে একটা ফোন দেয়= কি হল ভাই এটা??
নাভিদ কোন কথা না বলে হাসতে থাকে।
মবিন আবারও প্রশ্ন করে= আপনে আগে থেকেই
জানতেন এটা আইরিনদের বাসা?
নাভিদ= আসলে আইরিন তোমাকে অনেক পছন্দ করে,
এই কারণে ও আমার সাথে মিলে এই প্ল্যান টা
করছে।
মবিন= আর আপনেও রাজি হয়ে গেলেন!!
নাভিদ= কেন?? আইরিন কে কি তোমার ভালো
লাগেনা??
মবিন= আপনে কি পাগল!!! আইরিন তো কোন মেয়েই
না, একটা জংলী, একটা ফালতু মেয়ে। ওকে আমি
লাইক করতে পারি আপনে ভাবলেন কিভাবে? ওকে
দেখলেও আমার ঘৃণা হয়।
আইরিন দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে নাভিদ ও মবিনের
ফোন আলাপ শুনতে থাকে। কথাগুলো শুনার এক পর্যায়
আইরিনের চোখ রক্তজবার মত লালবর্ণ ধারন করে,
সুভ্র কোমল গাল বেয়ে দুফোটা অশ্রু গড়িয়ে পরে।
আইরিন এতদিন ভাবত মবিন ওকে শুধু অপছন্দই করে
কিন্তু মবিন ওকে এতোটা ঘৃণা করতে পারে তা
ঘুণাক্ষরেও ভাবেনি।
***
নাভিদ মবিনের সাথে কথা শেষ করে আইরিন আর
মবিনকে নিয়ে ভাবতে থাকে। এমন সময় হালিম
জিজ্ঞেস করে= ভাই, মবিনের সাথে কি কথা
বললেন?
নাভিদ= মবিনের লাভ ম্যাটার নিয়ে।
হালিম= ভাই আপনে ওদের লাভ ম্যাটার স্লভ করেন,
আর আমি যে কিনা আপনের রুমমেট, আপনে না
থাকলে আপনের মিল তুলি, আমরা এক প্লেটে খাই,
এক রুমে থাকি...
নাভিদ= থাক থাক, আমরা এক খাটে ঘুমাই আবার
এইসব বলতে যেওনা।
হালিম= তো ভাই আপনে আমার একটু হেল্প করেন
নাভিদ= কি সমস্যা আমাকে বল, দেখি পারি কিনা
হালিম= আমি কেন এখন সিঙ্গেল??
নাভিদ= মানে!!
হালিম= আমি যেই মেয়েকেই পছন্দ করি তার ই বিয়ে
হয়ে যায়।
নাভিদ= তার মানে তুমিই সেই বেক্তি যার নজর
লাগলে মেয়েদের বিয়ে হয়ে যায়।
হালিম= আরে ভাই সব গুলা পালায়া বিয়ে করেছে।
তাও আবার আমার ক্লাসমেট দের সাথে।
নাভিদ= আহা কি!!! কষ্ট তোমার ক্লাসমেট দের
সাথে প্রেম করল কিন্তু তোমার চোখের দিকে
তাকিয়ে একবার দেখলনা। এই চোখে কত প্রেম।
হালিম= আরে ভাই বাদ দেন, সত্যিকারের
ভালোবাসা কেওই বুঝে না।
নাভিদ= তাই নাকি, প্রতিদিন নতুন নতুন মেয়ের
প্রেমে পর আর তুমি কর সত্যিকারের প্রেম।
হালিম= আরে ভাই আল্লাহ আমার মনটা আকাশের মত
বিশাল করে বানিয়েছে। এই কারণে আমার মনে আমি
অনেক গুলো মেয়ে কে এক সাথে জায়গা দিতেই
পারি। আচ্ছা ভাই এসব বাদ দেন, এখন আমাকে
আইডিয়া দেন, কিভাবে আমি মেয়েদেরকে পটাইতে
পারি।
নাভিদ= এই ব্যাপারে তো আমি তেমন কিছু জানিনা
হালিম= আরে ভাই যা জানেন তাই বলেন।
নাভিদ= ওকে আমি তোমাকে দুই চারটা আইডিয়া
দেই।
হালিম= ওকে দেন
নাভিদ= প্রথমে সকালে উঠে ক্লোজআপ টুথ পেস্ট
দিয়ে দাঁত ব্রাশ করবা, তারপর রাস্তায় গিয়ে যেই
মেয়েটাকে প্রথমে দেখবা তার সাথে জোরে একটা
ধাক্কা খাইবা। তারপর মেয়েটা যখন রাগি রাগি
চেহারা করে তোমার দিকে তাকাবে তুমি হা করে
তোমার মুখের সুঘ্রাণ ওর নাকে দিয়া দিবা। যদি
ব্যাকগ্রাউন্ডে কাছে এসো গান শুনতে পাও তাহলে
বুঝবা তোমার লাইন ক্লিয়ার।
হালিম= আর যদি মেয়েটা আমাকে থাপ্পড় দেয়??
নাভিদ= তাহলে বুঝবা টুথপেস্ট দুই নাম্বার ছিল
হালিম= ভাই এটা কোন আইডিয়া হল, একটা ভালো
আইডিয়া দেন
নাভিদ= ওকে ওকে। শোনো একটা ভালো আইডিয়া
দেই, সুন্দর করে একটা চিঠি লেখবা, তোমার মনে যত
রঙ, যত কাব্যিক প্রতিভা আছে তার পুরটা প্রয়োগ
করবা তারপর দেখবা মেয়ে রাজি না হয়ে কই যায়
হালিম= আমার ভিতরে তো অতো কাব্যিক প্রতিভা
নাই।
নাভিদ= সমস্যা নাই, আমাদের বাংলা স্যার কে
বলবা, তিনি লিখে দিবেন।
হালিম= তাহলে ভাই এখন আমি কলেজে যাই, বাংলা
স্যার কে দেখি রাজি করতে পারি কিনা।
নাভিদ= বেষ্ট অফ লাক
****
কলেজের নতুন টেম্পোরারি টিচার জহিরুল, বাংলা
সিক্ষক হিসেবে তিন মাস হল জয়েন্ট করেছে। হালিম
প্রত্যেকটা ফ্লোরে ফ্লোরে, রুমে রুমে, ঘুরে ঘুরে
বাংলা স্যার কে খুজতে থাকে, হঠাৎ রাধার সাথে
দেখা।
হালিম= আরে রাঁধা নাকি? তমারেই তো খুজি
মনেমনে
রাঁধা= আমাকে খুজ কেন?
হালিম= একটা কথা জিজ্ঞেস করার ছিল
রাঁধা= কি কথা??
হালিম= নাভিদ ভাইরে কি তুমি আগে থেকে চিনো??
রাঁধা= না, তুমি এই কথা জিজ্ঞেস করলে কেন?
হালিম= তোমাদের বাড়ি সুবর্ণগ্রাম না??
রাঁধা= হুম, তো কি হয়েছে?
হালিম= নাভিদ ভাইয়ের গ্রামের বাড়িও সুবর্ণগ্রাম।
এখন সত্যি করে বলে নাভিদ ভাইয়ের সাথে তোমার
আগে থেকে কোন পরিচয় আছে কিনা?
রাঁধা= আমি নাভিদ কে আগে কখন দেখি নাই।
হালিম= ওকে তুমি এখন যাও।
হালিম এইবার দুই হাতে নিজের মাথা চুলকায় আর
একা একা বলতে থাকে= আল্লাহ গো আমি তো পাগল
অইয়া গেলাম, কিছুই বুঝিনা ..................এটা একটা
কেমন প্রেমের কাহিনী

Comments

Popular posts from this blog

Lilaboti 2

২১. পরীবানুর চিঠি Sep 19, 2017 | লীলাবতী (২০০৫) মঞ্জু তাঁর স্ত্রী এবং ঝড়-তুফানকে নিয়ে নিজ গ্রামে ফিরে গেছেন। লীলাবতীকে বলেছেন, মা, আমি তো ঘরজামাই না। ঘরজামাই হলে ভিন্ন কথা ছিল। আমি এখন একা না, আমার স্ত্রী আছে, দুই পুত্ৰ আছে। লীলাবতী বলল, পরী কি আপনার সঙ্গে যেতে চায়? মঞ্জু বিরক্ত হয়ে বললেন, তার আবার চাওয়া-চাওয়ি কী?... ২২. আমরা সবাই অপেক্ষা করি Sep 19, 2017 | লীলাবতী (২০০৫) লীলাবতী মূল বাড়ির উঠানে বসে আছে। সে মজার একটা দৃশ্য দেখছে। তার সামনে হাত পঁচিশেক দূরে একটা কাঁঠালগাছ। কাঁঠালগাছের নিচে গর্তমতো হয়েছে। বর্ষার পানি জমেছে। গর্তে। সেই পানিতে একটা কাক গোসল করছে। গোসল সারছে অতি ব্যস্ততায়। ঠোঁটে পানি নিয়ে পালকে মাখছে। কাকের স্নান মুগ্ধ হয়ে...

Md Yousuf

Md Yousuf Name: MD YOUSUF Father's Name: SHAZIBAL HOUQUE Mother's Name: PARUL BIBI Hight:5.4" Mobile: +8801838467839 Email:yousufhossain985@gmail.com

লঙ্কা

লঙ্কা কাকাবাবু বললেন, অসম্ভব! তোমার এ-কথা আমি কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছি না। তুমি এ-প্রসঙ্গ আর আমার কাছে বোলো না, অন্য কথা বলো? অরিজিৎ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, কাকাবাবু, আমার যে আর অন্য কোনও উপায় নেই। কাকাবাবু ধমকের সুরে বললেন, হ্যাঁ, উপায় আছে। তুমি এক্ষুনি চান করে নাও, তারপর ভাল করে খাওন্দাও, তারপর একটা লম্বা ঘুম দাও! অরিজিৎ আবার বলল, কাকাবাবু, তুমি বুঝতে পারছ না… কাকাবাবু তাকে থামিয়ে দিয়ে বললেন, আমার আর বোঝার দরকার নেই। তারপর তিনি গলা চড়িয়ে ডাকলেন, সন্তু! সন্তু!সন্তু একটু আগেই ব্যাডমিন্টন খেলে ফিরেছে। কাকাবাবুর ঘরে একবার উঁকি মেরে ওপরের ঘরে চলে গেছে। কাকাবাবুর ডাক শুনে নীচে নেমে এল তরতর করে। মা-বাবা বেড়াতে গেছেন। পুরী, বাড়িতে আর বিশেষ লোকজন নেই। কাকাবাবুর ঘরে একজন ভদ্রলোককে দেখতে পেল সন্তু, মুখটা চেনা-চেনা। খুব সম্ভবত মধ্যপ্রদেশে কোথাও দেখা হয়েছিল। কিন্তু এখন তার মুখে খোঁচাখোঁচা দাড়ি। মাথার চুল ধুলোবালি-মাখা, তার গায়ের প্যােন্টশার্ট দোমড়ানো-মোচড়ানো, কেমন যেন পাগল-পাগল চেহারা। কাকাবাবু বললেন, অরিজিৎকে চিনতে পারছিস তো, সন্তু? অরিজিৎ সিকদার। সেই একবার বস্তার জেলার ...